এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম কিছুটা কমেছে। নিম্নমুখী চাহিদা ও পর্যাপ্ত মজুদ জ্বালানি পণ্যটির দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় দাম ছিল ১১ ডলার ৬৫ সেন্ট, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১১ ডলার ৯০ সেন্ট। এ সময় অক্টোবরে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১১ ডলার ৪৫ সেন্ট।
চীনের বাজারে সীমিত আকারে এলএনজির চাহিদা বেড়েছে। আরগাস জানায়, দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বেইজিং গ্যাস সম্প্রতি দুটি এলএনজি কার্গো কিনেছে। এতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল ১২ ডলারের নিচে। প্রতিষ্ঠানটি গত বছর জানিয়েছিল, ১২ ডলার বা তার ওপরে দাম হলে আমদানি তাদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে। যদিও এ সময় বাড়তি মজুদের কারণে এশিয়ার উত্তর-পূর্ব দেশগুলোয় পণ্যটির চাহিদা নিম্নমুখীই ছিল।
এদিকে ইউরোপের দেশগুলোয় তীব্র গরম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ফলে এ অঞ্চলে গত সপ্তাহে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল এলএনজির বাজারদর।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) বাজার আদর্শে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম স্থির করেছে ১০ ডলার ৫৮ সেন্ট। এটি টিটিএফে ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিমূল্যের তুলনায় কম।
আরগাস গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৫৪ সেন্ট। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিজ প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৫৩ সেন্ট।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সাধারণত পানামা খাল হয়ে এশিয়ার দেশগুলোয় পণ্য সরবরাহ বেশি হয়। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি রফতানিতে ইউরোপই বেশি লাভজনক গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এ কারণে উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে কিংবা পানামা খাল হয়ে বেশির ভাগ এলএনজি কার্গো বর্তমানে ইউরোপমুখী।
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজি পরিবহন ব্যয় দৈনিক ৩৬ হাজার ৭৫০ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে এ সময় এলএনজি পরিবহন ব্যয় ছিল দৈনিক ৩৩ হাজার ২৫০ ডলার।
গত সপ্তাহে এলএনজিসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের বাজারের বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে এ দুই নেতার বৈঠক থেকে ফলপ্রসূ কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
বৈঠকের আগে আরগাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার ইয়ামাল ও সাখালিন টার্মিনালগুলো থেকে বছরে প্রায় তিন কোটি টন এলএনজি রফতানি হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর হলে সেগুলোও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।